Tuesday, August 13, 2013

হেফাজতের মহাসমাবেশে অভিযানে অংশ নেয়া অনেক কর্মকর্তা আতংকে।

সাখাওয়াত হোসেন : আতংকে রয়েছেন গত ৫ মে রাতে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতের মহাসমাবেশে অভিযানে অংশ নেয়া পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি ও গোয়েন্দা সংস্থার অনেক কর্মকর্তা। আল-জাজিরা, বিবিসি, নিউইয়র্ক টাইমস, ওয়াশিংটন পোস্টসহ আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছিল ওই অভিযান। অনেক আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমের পক্ষ থেকে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনও প্রকাশ করা হয়। সম্প্রতি হেফাজতের সমাবেশকে নিয়ে তথ্য দেয়ায় মানবাধিকার সংস্থা ‘অধিকার’ সম্পাদক আদিলুর রহমান খান গ্রেফতার হওয়ায় বিষয়টি আবারো জোরালোভাবে সর্বত্র আলোচনা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মহলও এ বিষয়টি নতুন করে পর্যবেক্ষণ করছে। নিজেদের রক্ষা করতে এরই মধ্যে হেফাজতের অভিযানে অংশ নেয়া অনেক কর্মকর্তা বিভিন্ন দেশের ভিসা নিয়ে রেখেছেন। তবে আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা বলছেন, হেফাজতের সমাবেশে অভিযান চালানো কারো ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তে হয়নি। এটি সরকারের উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশে দেশের জনগণের জানমাল রক্ষা এবং শান্তি বজায় রাখার জন্যই করা হয়েছে।
শাপলা চত্বরে হেফাজতের মহাসমাবেশে অভিযানে অংশ নেয়া পুলিশ-র‌্যাবের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে দৈনিক ইনকিলাবকে বলেন, আমরা আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশ অনুযায়ী অভিযানে অংশ নিয়েছি। এখানে আমাদের ব্যক্তিগত ইচ্ছা বা অনিচ্ছার কোন সুযোগ ছিল না। তবে সরকার পরিবর্তনের পর নতুন করে তদন্ত বা অন্য কোন কারণে বিষয়টি আবার সামনে চলে আসতে পারে। এ জন্য তারা বেশ চিন্তিত বলে ওই কর্মকর্তারা মন্তব্য করেন।
ওই কর্মকর্তারা আরো বলেন যে, শুধু পেশাদারিত্ব নয়, এর বাইরে আরো কিছু বিষয় মাথায় রেখেই বেশ কয়েকজন কর্মকর্তাকে অভিযানে অংশ নেয়ার জন্য বাছাই করা হয়েছিল।
পুলিশ প্রধান হাসান মাহমুদ খন্দকার দৈনিক ইনকিলাবকে বলেন, ৫ মে রাতে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতের মহাসমাবেশে অভিযানে অংশ নেয়া পুলিশ-র‌্যাবের কর্মকর্তাদের আতংকিত হওয়ার কোন অবকাশ নেই। আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপর সংবিধান অনুযায়ী যে অর্পিত দায়িত্ব দেয়া হয়েছে ওই রাতে তারা ওই অর্পিত দায়িত্ব পালন করেছেন। এটি দেশের জনসাধারণের কল্যাণের জন্যই করা হয়েছে। হেফাজতের মহাসমাবেশে অভিযানের সময় মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে যে সব কথা বলা হচ্ছে সেগুলো সত্য নয়।
আইজিপি হাসান মাহমুদ খন্দকার আরো বলেন, এ ধরনের বড় অভিযানের আগে যে ধরনের পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন পুলিশ ও র‌্যাবের পক্ষ থেকে তা করা হয়েছে। মিডিয়ার অনেক কর্মী অভিযানের সময় পুলিশের সাথে ছিলেন। অভিযানের কোন অংশই গোপন ছিল না। অভিযানের আগে বা পরে যাদের মৃত্যু হয়েছে সে বিষয়ে কোন গোপনীয়তাও রক্ষা করা হয়নি। এটি নিয়ে কোন প্রকার বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করার সুযোগ নেই। সরকার দেশের সর্বস্তরের জনগণের জানমালের নিরাপত্তায় সবসময় আন্তরিক, আগামীতেও এর ব্যতিক্রম হবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তবে এ ঘটনার পর বিএনপির পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে মতিঝিল থেকে হেফাজতে ইসলামের কর্মীদের তুলে দিতে ‘গণহত্যা’ চালানো হয়েছে দাবি করে আন্তর্জাতিক তদন্ত দাবি করা হয়েছিল। বিবৃতিতে আরো বলা হয়, হেফাজতের সাংবিধানিক অধিকার ৫ মে শাপলা চত্বরে পাইকারি হত্যাকা- চালিয়ে বহু মানুষকে আহত করেছে সরকার। পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, গত ৫ মে রাতে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতের বিরুদ্ধে নেয়া অভিযান নিয়ে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তথ্য প্রকাশ করেন আদিলুর। পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, ওই ঘটনার আগে-পরে একজন পুলিশ সদস্যসহ ১১ জন নিহত হয়েছেন। কিন্তু ‘অধিকার’ নামক একটি বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে উদ্দেশ্যে প্রণোদিতভাবে পুলিশ বাহিনী, সরকার ও রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ করার জন্য তাদের ওয়েবসাইটে ওই ঘটনায় ৬১ জন নিহতের তালিকা তৈরি করে বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় কাল্পনিক তথ্য প্রকাশ করে।

গোয়েন্দা প্রতিবেদনে সরকারকে হেফাজতের সঙ্গে সমঝোতার পরামর্শ।

আগামী জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াতের পক্ষ হয়ে সরকারকে পরাজিত করার ছক এঁটেছে হেফাজতে ইসলাম। এজন্য নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় সিটি করপোরেশন নির্বাচনের চেয়েও বড় ধরনের ভূমিকা পালন করবে। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপি, জামায়াত ও হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নেতাদের সমন্বয়ে কেন্দ্রীয় লিয়াজোঁ কমিটি করে পর্যায়ক্রমে বিভাগ, জেলা, উপজেলা, থানা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে সমপ্রসারিত করবে। এ কারণে রাজনৈতিক স্বার্থে হেফাজতের সঙ্গে সরকারের সমঝোতা জরুরি। হেফাজতে ইসলামের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতৃবৃন্দের বৈঠক বা আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে এ সমঝোতা করা যেতে পারে। বিশেষ করে আগামী জাতীয় নির্বাচনে রাজনৈতিক স্বার্থে এ ব্যাপারে সমঝোতায় উপনীত হওয়া জরুরি বলে প্রতীয়মান হয়। ঈদের পরপরই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জমা পড়া দেশের শীর্ষ এক গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদন সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। গোয়েন্দা রিপোর্টের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগে পাঠিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। প্রতিবেদনে হেফাজতে ইসলামের আগাম কর্মসূচিসহ তা ঠেকানোর নানা সুপারিশ তুলে ধরা হয়েছে। গোয়েন্দা রিপোর্টে হেফাজতের কর্মসূচি সম্পর্কে বলা হয়েছে, ইসলামী মাহফিল, ওয়াজ ও দোয়া মাহফিল এবং অন্যান্য ধর্মীয় অনুষ্ঠানের মাধ্যমে কৌশলে তারা আগামী নির্বাচনকেন্দ্রিক প্রচারণা করার পদক্ষেপ নিতে পারে। এ ছাড়া রাজনৈতিক দল হিসেবে তারা নিবন্ধিত না হওয়ায় বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটে না থেকেও নির্বাচনী কর্মকাণ্ডে ১৮ দলীয় জোটের প্রার্থীদের সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করবে। আগামীতে তারা বড় ধরনের রাজনৈতিক দল এবং নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে নিবন্ধন নেয়ার পরিকল্পনা করছে। এ জন্য সাংগঠনিক ও নির্বাচনী কাজের জন্য বেশি করে জাকাত, ফিতরা, কোরবানির পশুর চামড়া বিক্রির অর্থ এবং অন্যান্য উৎস থেকে বেশি করে তহবিল সংগ্রহ করার উদ্যোগ নিয়েছে। এতে মন্তব্য বা সুপারিশ কলামে বলা হয়েছে, সামপ্রতিক সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ফলাফলকে বিশ্লেষণ করে হেফাজতের ভূমিকায় সরকারদলীয় প্রার্থীদের পরাজয়ের বিষয়টি গভীরভাবে অনুধাবন করা প্রয়োজন। দেশের চলমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সরকারের অতি কৌশলে হেফাজতকে নিষ্ক্রিয় বা নিয়ন্ত্রণে আনার পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন। হেফাজতে ইসলাম যাতে সরকারবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় হতে না পারে এ জন্য কওমি মাদরাসাভিত্তিক গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো যেতে পারে। হেফাজতের আমীরের ভিডিও ফুটেজ সম্পর্কে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হেফাজতের আমীরের সামপ্রতিক নারীবিদ্বেষী বক্তব্যের ভিডিও চিত্র প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় ব্যাপক প্রচার বা প্রচারণা চালিয়ে সাধারণ মানুষকে বিশেষ করে নারীসমাজকে হেফাজতের বিরুদ্ধে সোচ্চার করার পদক্ষেপ নেয়া যায়। প্রতিবেদনে হেফাজতের ঈদ-পরবর্তী সম্ভাব্য কর্মসূচি সম্পর্কে বলা হয়েছে, গত ২৪শে জুন হাটহাজারী কওমি মাদরাসায় সংগঠনের আমীরের নেতৃত্বে অনুষ্ঠেয় বৈঠকের সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর মধ্যে রমজানে তারা থানা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে কমিটি গঠন করে থানা ও জেলা অনুযায়ী ইফতার পার্টি, মিলাদ মাহফিলের মাধ্যমে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনাসহ গণসংযোগ করেছে। তারা সরকারকে নাস্তিকদের সঙ্গে তুলনা করে জনমত কমিয়ে আগামী জাতীয় নির্বাচনে পরাজিত করার জন্য ব্যাপক অপপ্রচার চালাচ্ছে। একই সঙ্গে ইসলামী জোটভুক্ত দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করে সরকারের বিরুদ্ধে জনমত তৈরি করে দাবি আদায়ে সোচ্চার হচ্ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হেফাজতে ইসলাম দলীয় কার্যক্রম বেগবান রাখতে বিশিষ্ট আলেম-ওলামাদের গণসংবর্ধনা দেয়ার ব্যবস্থা করছে। ইতিমধ্যে হেফাজতের সাধারণ সম্পাদক জুনায়েদ আল বাবুনগরীকে সংবর্ধনা দেয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে আগাম খবর জানিয়ে বলা হয়েছে, ঈদের এক মাস পর হাটহাজারীতে জাতীয় ওলামা সম্মেলন আয়োজন করবে হেফাজত। ওই সম্মেলনে হেফাজতের ওপর জুলুম, নির্যাতন, মামলা, শাপলা চত্বরে হত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সরকারের বিরুদ্ধে কর্মসূচির ঘোষণা আসতে পারে। বিশেষ সূত্রে জানা যায়, হেফাজতে ইসলাম প্রায় এক কোটি লোকের সমাগম ঘটিয়ে ঢাকায় বিরাট আকারের মহাসমাবেশ কর্মসূচি পালন করে সরকারকে চাপে রাখার পরিকল্পনা নিতে পারে। এ ছাড়া পলাতক নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা পরিচালনা করা এবং আটক নেতাকর্মীদের আর্থিক ও আইনগত সহায়তা দিচ্ছেন তারা। গোয়েন্দা রিপোর্টের শুরুতে বলা হয়েছে, হেফাজতে ইসলাম মূলত জামায়াত-শিবির এবং বিএনপি’র ইন্ধন ও সহায়তায় যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বাধাগ্রস্ত করাসহ সরকার পতনের আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকায় অবতীর্ণ হলেও সরকারের কৌশলী ও সময় উপযোগী পদক্ষেপের কারণে তাতে সফলতা পায়নি। সমপ্রতি জামায়াতের নিবন্ধন অবৈধ ঘোষণা হওয়ার প্রতিবাদ, যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচানো এবং বিএনপি’র তত্ত্বাবধায়ক ইস্যু প্রতিষ্ঠিত করার জন্য ৫ই মে’র হতাহতের ঘটনাকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে হেফাজতে ইসলামকে উসকে দেয়া হচ্ছে। সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্র বা আন্দোলন কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঈদ-পরবর্তী সময়ে হেফাজতকে মাঠে নামিয়ে সরকারকে বেদায়দায় ফেলার কলাকৌশল তৈরি ও তা বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নিয়েছে। এ জন্য হেফাজতের ঈদ-পরবর্তী সম্ভাব্য কর্মসূচির বর্ণনা করা হয়।

ইন্টারনেট বিল কমাতে আন্দোলনে নামছেন মুস্তাফা জব্বার

ইন্টারনেটের বিল কমানোর দাবিতে আন্দোলনে নামার ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির সভাপতি, প্রযুক্তিবিদ মুস্তাফা জব্বার। ইন্টারনেট পাওয়া একজন নাগরিকের মৌলিক অধিকার হিসেবে সংবিধানে স্বীকৃতি চান তিনি।
তিনি বলেন, ‘প্রতি মাসে এক এমবিপিএস (মেগাবিট প্রতি সেকেন্ডে) গতির ব্যান্ডউইথের ব্যবহারের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য পাচশ’ টাকার বেশি হতে পারে না। ইন্টারনেটের চার্জ নির্ধারণের সময় ডাটার পরিমাণ কোনো শর্ত হতে পারে না। সরকার ব্যান্ডউইথের হিসাবেই ইন্টারনেট বিক্রয় করছে, ইন্টারনেট সেবাপ্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সেই হিসাবেই ক্রয় করে।’
শীঘ্রই দাবির বিষয়গুলো জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলবেন বলে জানান মুস্তাফা জব্বার।
আন্দোলন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘১৯৯৬ সালে শুল্ক ও ভ্যাটমুক্ত কম্পিউটারের আন্দোলন করেছিলাম, জয়ী হয়েছিলাম। এবার ইন্টারনেটের বিল কমানোর দাবিতে আন্দোলন করবো। তবে আমি মনে করি না এরজন্য রাস্তায় নেমে গাড়ি ভাঙচুর
করতে হবে। সরকারের নীতি নির্ধারকদের বিষয়টি বোঝানো দরকার।’
বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির নেতৃত্বে আন্দোলন হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সারা দেশে মানুষের মধ্যে সচেতনতা প্রয়োজন। ইতিমধ্যেই প্রায় ১০টি সংগঠন আন্দোলনে সম্পৃত্ত হতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এই সপ্তাহে ছুটি ও রাজনৈতিক অস্থিরতা রয়েছে। সামনের সপ্তাহে সবাইকে নিয়ে বড় একটি প্লাটফর্ম তৈরি করা হবে।’
সম্প্রতি ফেসবুকে ইন্টারনেট বিল কমানোর আন্দোলনে নামার ঘোষণা দিলে ব্যাপক সাড়া পান মুস্তাফা জব্বার। ফেসবুকে তিনি ৬ দফা দাবি তুলে ধরেন। এরমধ্যে ২০১৪ সালের মধ্যে প্রতি বাড়ি থ্রিজি নেটওয়ার্ক আওতায় আনা, শিক্ষার্থীদের জন্য সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিনামূল্যে ইন্টারনেট সেবা, প্রত্যেক পৌর এলাকায় কমপক্ষে একটি ওয়াইফাই জোন তৈরি অন্যতম।

মসজিদ থেকে শিবির সন্দেহে ২৩ জন তাবলীগের সদস্য আটক।

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি: নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার কাঁচপুর এলাকায় একটি মসজিদ থেকে মঙ্গলবার সকালে
হরতাল চলাকালে ২৩জনকে আটক করে তাদের বিরুদ্ধে গোপন বৈঠক ও জামায়াত-শিবির সন্দেহের অভিযোগ এনেছে পুলিশ। আর আটককৃতরা দাবী করেছেন, তারা তাবলীগ করতে এখানে এসেছিলেন।

নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম জানান, কাঁচপুর এলাকায় সেনপাড়া জামে মসজিদ থেকে
সকাল ১১টায় হরতাল চলাকালে ২৩জনকে আটক করা হয়েছে। তাদেরকে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। আটককৃতদের মধ্যে কয়েকজন জামায়াত ও তাদের ছাত্র সংগঠন ছাত্র শিবিরের লোকজন।

তবে কয়েকজন নিজেদের স্থানীয় এলাকার ও আওয়ামী লীগের লোকজন বলেও দাবী করেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সোনারগাঁও থানার ওসি আতিকুর রহমান জানান, হরতাল চলাকালে নাশকতার বিষয়ে আলোচনার সময়ে ২৩জনকে আটক করা হয়েছে।

আটককৃতদের মধ্যে দ্বীন ইসলাম জামায়াতে ইসলামীর প্রচার বিভাগের সক্রিয় সদস্য। সে বিভিন্ন স্থানে পোস্টার সাটানো সহ জামায়াতের প্রচারণা চলাতো। আটককৃত অন্যরা হলো আবু বকর সিদ্দিক, হাফেজ নজির আহমেদ, আতাউর রহমান, কামরুল ইসলাম, মাহাবুব, নবীর, নাজমুল, সাইদুল, মনির, ইমরান প্রমুখ। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলেও জানান ওসি।

এদিকে আটককৃতদের কয়েকজন থানায় উপস্থিত সাংবাদিকদের কাছে দাবী করেছে, তারা
তাবলীগ জামায়াতের সদস্য। সকালে প্রকাশ্যে তারা মসজিদের ভেতরে বয়ানের সময়ে পুলিশ
অহেতুক হানা দিয়ে হয়রানির জন্য থানায় নিয়ে আসে। আটককৃতরা প্রশ্ন ছুঁড়ে বলেন, ‘এভাবে মসজিদের ভেতরে নাশকতার মিটিং সম্ভব না। নাশকতার মিটিং হয় গোপনে।’

Tuesday, August 6, 2013

আগামী নির্বাচনে তুরুপের তাস হেফাজত: যুগশঙ্খ

বাংলাদেশে সেক্যুলারদের বিপরীতে ইসলামের র‌্যাডিক্যাল ধারা হেফাজতে ইসলাম খুবই শক্তিশালী হয়ে উঠছে। মৌলবাদী এই সংগঠনটির অধীনে বাংলাদেশের সব মৌলবাদী এখন ঐক্যবদ্ধ হচ্ছেন। হেফাজতে ইসলামই আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচনে তুরুপের তাস হিসেবে কাজ করবে। যা শেখ হাসিনা সরকারের পতনের মূল কারণ হবে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। তারা বলছেন, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত পাঁচ সিটি নির্বাচনে বিরোধীদের বিপুল ভোটের জয়ে এটা পরিষ্কার হয়ে গেছে। মঙ্গলবার আসামের প্রভাবশালী পত্রিকা যুগশঙ্খ সিলচর সংস্করণের এক প্রতিবেদনে এসব কথা জানায়। প্রতিবেদনে বলা হয়, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে কাজ করবে। ২০১৪ সালের হেফাজতে ইসলাম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে হাজির হবে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন। বাংলাদেশের বিপুলসংখ্যক কট্টর মুসলিমকে নিয়ে এই দলটি গঠিত। দলটির প্রধান আল্লাম শফী তাদের তৎপরতা রাজনৈতিক নয় দাবি করে বলেন, আমরা রাজনীতিতে আগ্রহী নই। আমাদের লক্ষ্য মহৎ। আমরা বিশেষভাবে ধর্ম নিয়েই কাজ করি। হেফাজতের জনসমর্থন সম্পর্কে তেমন ধারণা না থাকলেও গত ৫ মে সংগঠনটি তাদের শক্তি প্রদর্শন করে। শাহবাগের অসাম্প্রদায়িক আন্দোলনের বিরুদ্ধে এবং ১৩ দফা দাবিতে ওই দিন তারা ঢাকা অবরোধ করে। ওই সময় কমপক্ষে পাঁচ লাখ লোক ঢাকায় জড়ো হয়ে সহিংসতা চালায়। যুগশঙ্খ জানায়, জনসমক্ষে নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা নিষিদ্ধ, সংবিধানে সর্বশক্তিমান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাসের বিষয়টি পুনর্বহালের দাবিসহ ১৩ দফা দাবি বাস্তবায়নে এই সমাবেশ করেছিল সংগঠনটি। এতে দিনভর পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে তাদের অন্তত ৫০ জন নিহত হন। যদিও হেফাজত ও বিরোধীরা এ ঘটনায় সহস্রাধিক নিহতের দাবি করেন। ওই দিন গ্রেফতার হন কয়েক হাজার নেতাকর্মী। বাংলাদেশে মৌলবাদী জামায়াতে ইসলামী প্রধান ইসলামী দল হলেও তাদের পরেই হেফাজতের ইসলামের অবস্থান। যদিও শাসক দলের দাবি জামায়াতই হেফাজতের নামে তাদের কার্যক্রম চালাচ্ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১০ সালের জানুয়ারিতে সংগঠনটি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এটি নীরবে শক্তি সংগ্রহ করেছে, যা নিয়ে শেখ হাসিনা সরকার এখন মারাত্মকভাবে উদ্বিগ্ন। হেফাজত প্রধান আহমদ শফীর চট্টগ্রাম হাটহাজারী মাদ্রাসায় ১২ হাজার শিক্ষার্থী রয়েছেন। এছাড়া বাংলাদেশের কয়েক হাজার কওমি মাদ্রাসার লাখ লাখ শিক্ষার্থী এই দলটির মূল চালিকা শক্তি হিসেবে কাজ করছেন, যারা আগামী নির্বাচনে বড় শক্তি হিসেবে কাজ করবেন। বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষক ফরহাদ মাজহার বলেন, হেফাজত বাংলাদেশের গ্রামে বসবাস করা স্বল্প শিক্ষিত দরিদ্র জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব করে থাকে। শহরের মধ্যবিত্তদের কাছে তারা অবজ্ঞার পাত্র। তাদের আন্দোলনের সঙ্গে আন্তর্জাতিক বা সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর কোনো সম্পর্কে নেই। তবে তাদের পাশ কাটিয়ে গেলে এক সময় তারা আরো চরম হয়ে উঠতে পারে। বাংলাদেশের ক্ষমতায় যেতে ইসলামপন্থীরা সব সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। হেফাজতের প্রভাবের কথা স্মরণ করে ঢাকার এক শিক্ষাবিদ বলেছেন, আপনি ইসলামপন্থীদের সমর্থন ছাড়া জিততে পারবেন, কিন্তু তাদের বিরোধিতার মুখে জিততে পারবেন না।

ছেলে উচ্চবর্নের মেয়ে বিয়ে করায় মাকে নগ্ন করে ঘোরানো হল রাস্তায়

ভারতের মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী পৃথ্বিরাজ চ্যাবনের নিজ জেলায়ই এক নারীকে নগ্ন করে রাস্তায় ঘোরানো হয়েছে। সোমবারের এ ঘটনার আগে ৪৫ বছর বয়সী ওই নারীকে একদল মানুষ প্রহার করে। এসব ঘটনার পর তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। কিন্তু তাকে যারা এভাবে অবমাননা করেছে তারা রয়েছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।

ওই ঘটনা সোমবার ঘটে মুখ্যমন্ত্রীর নিজ জেলা সাতারার মালগাঁও গ্রামে। দলিত শ্রেণীর ওই নারী এখন বিচার চাইছেন সবার কাছে। কিন্তু তিনি দলিত শ্রেণীর বলে তার অভিযোগ নিবন্ধিত করতে বিলম্ব করা হয়। অভিযোগ আছে, ওই ঘটনায় জড়িতরা মুখ্যমন্ত্রীর খুব কাছের বলে তাদের বিরুদ্ধে মামলা নিতে বিলম্ব করা হয়।

তাদের বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপও নেয়া হচ্ছে না। গত ১৮ই ডিসেম্বর উচ্চবংশীয় এক যুবতীকে নিয়ে পালিয়ে যায় নির্যাতিত ওই মহিলার ছেলে। এরপর ওই যুবতীর অভিভাবকরা তাদের মেয়ে নিখোঁজ হয়েছে মর্মে একটি অভিযোগ দাখিল করে। একই সঙ্গে তারা ওই নারীকে তাদের মেয়ে বের করে দিতে নানাভাবে হয়রানি করতে থাকে।

ওই সময় তিনি জানিয়ে দেন তার ছেলে ও ওই মেয়ে পালিয়ে কোথায় গেছে তা তিনি জানেন না। স্থানীয় সূত্রমতে, নিখোঁজ যুবতীর পরিবার সোমবার একটি স্থানে ডেকে নেয় দলিত শ্রেণীর ওই নারীকে। এরপর তাকে প্রশ্নবাণে তারা জর্জরিত করতে থাকে। একপর্যায়ে তারা তাকে ধমকাতে থাকে, প্রহার করতে থাকে, এমনকি তাকে নগ্ন করে গ্রাম ঘুরতে বাধ্য করে। এ ঘটনায় ওই মহিলা মারাত্মক আহত হন। তাকে পরের দিন একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দলিত মহাসংঘ প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মাচিন্দ্র সাকাতে বলেছেন, মুখ্যমন্ত্রীর নিজের জেলায় এ ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় কর্তৃপক্ষ চোখ বন্ধ করে আছে। তারা রাজনৈতিক কারণে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

বিতর্কিত ইমাম ফরীদ উদ্দীন মাসঊদের ইমামতিতে শোলাকিয়ায় ঈদ নামাজ পড়তে নারাজ মুসুল্লিরা

রতি বছরের মতো এবারও উপমহাদেশের সবচেয়ে বড় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে। আর এই ঈদ নামাযের ইমামতি করতে প্রস্তুত ‘বিতর্কিত’ আলেম মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ।
তবে কিশোরগঞ্জের একাধিক সংগঠন ও সচেতন মুসল্লিরা ফরিদ উদ্দিন মাসউদকে নাস্তিক, শাহবাগী ও আওয়ামী মদদপুষ্ট ইমাম হিসেবে উল্লেখ করে তার পেছনে নামাজ পড়তে নারাজ বলে জানিয়েছে।

জানা যায়, ওয়াকফ্ দলিল অনুযায়ী মাঠের ইমাম নিয়োগের ব্যাপারে মোতাওয়াল্লির ভূমিকা স্বৃীকৃত থাকলেও মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পরেই প্রশাসনের হস্তক্ষেপে মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদকে ইমাম হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। নিয়োগের পর থেকে এ নিয়ে নানা মহলে ব্যাপক সমালোচনা ও বিতর্ক থাকলেও ফরীদ উদ্দীন মাসঊদের সাম্প্রতিক কর্মকান্ড নিয়ে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে কিশোরগঞ্জে। ইতিমধ্যেই ইমামতি থেকে তাকে প্রত্যাহারের দাবিতে সাধারণ ছাত্র ও মুসল্লিদের পক্ষ থেকে মানববন্ধন, মিছিল ও লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে।

এসব কর্মসূচি থেকে তাকে কিশোরগঞ্জে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছে। এমনকি আগামী ঈদ জামাতে তাকে প্রতিরোধেরও ঘোষণা দেয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে কিশোরগঞ্জের একাধিক সংগঠন ও সচেতন মুসল্লির সঙ্গে কথা বললে তারা ফরিদ উদ্দিন মাসউদকে নাস্তিক, শাহবাগী ও আওয়ামী মদদপুষ্ট ইমাম হিসেবে উল্লেখ করে জানান- কিশোরগঞ্জসহ দেশবাসী তার পেছনে নামাজ পড়তে নারাজ। অবিলম্বে তাকে প্রত্যাহার করা হোক।

এ ব্যাপারে হয়বতনগর জমিদার বাড়ির বর্তমান উত্তরাধিকারী ও শোলাকিয়া ঈদগাহের মোতাওয়াল্লি দেওয়ান মোহাম্মদ আবুল ফাত্তাহ্ দাদ্ খান বলেন, আমাদের নিয়োগ করা ইমাম মাওলানা আবুল খায়ের মো. সাইফুল্লাহকে বাদ দিয়ে তথাকথিত শাহবাগী আলেম ফরীদ উদ্দীন মাসঊদকে প্রশাসন কর্তৃক নিয়োগ দেয়ায় এ মাঠের মুসল্লিরা অসন্তুষ্ট। তাকে আর কেউ ইমাম হিসেবে এই মাঠে দেখতে চায় না।

তবে এই কিছুর মধ্যেও ঈদ জামাতের জন্য শোলাকিয়ায় চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। ঈদের জামাত শুরু হবে সকাল ১০টায়। ঈদ জামাতে অংশ নিতে জেলা প্রশাসন ও ঈদগাহ্ পরিচালনার কমিটির পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মাননীয় প্রধান বিচারপতি ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রীসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে জানান পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মো. সিদ্দিকুর রহমান।